ফুলপুরে কুরবানীর পশুর দাম সহনীয় পর্যায়ে

Phulpurb-Pic-cow.jpg

এম এ মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে কুরবানীর পশুর দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। আজ শনিবার বিকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ভাইটকান্দি বাজারে প্রায় এক হাজার কুরবানীর পশু কেনা বেঁচা হয়েছে। ওই বাজারে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকায় একটি গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানান তহসিলদার হারুনুর রশিদ। দরে অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতাই খুশি। উপজেলার সঞ্চুর গ্রামের কৃষক আবু হানিফা তার গরুটি বিক্রি করেছেন ৭২ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, এর আগে গরুডা আমুয়াকান্দা বাজারে নিছলাম। হেইনো ৭২ হাজার দাম অইছিন। আজগাও বাহাত্তর হাজারই। লাভ-লস সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লুকসান অইতো কেয়া? এইডা আমার গোয়ালির বাছুর। মারা দেওড়া গ্রামের কালুর গরুটি ১ লাখ ৫০ হাজার দাম হলেও বিক্রি করছেন না। এর আগে তার গরুটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাম হয়েছিল বলে তিনি ওই দরটির অপেক্ষা করছেন। কাজিয়াকান্দা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়া গরুডা কিনছিলাম। অহন এর কাছাকাছি দাম হচ্ছে। আর কিছু অইলেই ছাইড়া দেয়াম।
নকলা উপজেলার হাসনখিলা তারাকান্দা গ্রামের আকরাম নামে এক কৃষকের সাথে কথা হলে তিনি একটু লসে আছেন বলে জানান। তার গরুটি ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দাম হলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও বিক্রি করছিলেন না। জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৮মাস আগে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছি। আরও ২৭ হাজার টাকা এর পিছনে খরচ হয়েছে। এখনও ২ হাজার টাকা লস আছে আর শ্রম তো আছেই। ফুলপুর কলেজ রোডের মোফাজ্জল হোসেন ৭৫ হাজার টাকায় একটি গরু কিনতে পেরে খুশি। তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান গরু বাজারে উঠলে দাম আরো কম থাকতো। আজ ভাইটকান্দি বাজারে গরু কিনতে গিয়েছিলেন ফুলপুর অফিসার ইন-চার্জ ইমারত হোসেন গাজী। তিনি বলেন, গরুর দাম সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। তবে মাঝারিগুলোর দাম তুলনামূলক একটু বেশি। কারণ ওগুলোর ক্রেতা বেশি।
উল্লেখ্য, গত বছর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি গরু কুরবানী করে এর গোশত গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবারও গরিবদের জন্য গরু কেনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছর যে ফান্ড থেকে এর ব্যবস্থা হয়েছিল এবার সেই ফান্ডটি নেই। তাই হচ্ছে না।

Top