কুরবানীর গোশত জমিয়ে রেখে পঁচানোর চেয়ে গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিন

75tgh.jpg

এম এ মান্নান
সমাজের ধনীদের সম্পদে গরিবদের হক রয়েছে। কুরবানীর গোশতের বেলায়ও তাই। আমাদের মুরুব্বীরা বহু আগে থেকে তাদের কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে নিতেন, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে ও এক ভাগ সমাজের গরিবদে মাঝে বিলিয়ে দিতেন। এই প্রথাটা ভাল। তবে মাসআলায় আছে, যদি সবটুকু নিজের প্রয়োজন পড়ে তবে সবটুকুই রেখে দিতে পারবেন। কিন্তু অনেকে প্রয়োজন না পড়লেও সব গোশত ফ্রিজে জমিয়ে রেখে পঁচায়, কুকুরকে খাওয়ায় তবু কাউকে দিতে চায় না। এটা ইসলাম সমর্থন করে না। এ বিষয়ে ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত একটি গল্প তুলে ধরা হলো।
গল্পটি হলো এই- ‘দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে কুসুমের মা কুসুমের বাবাকে বললেন, আমি তো পিঁয়াজ-মরিচ কেটে রেখেছিলাম। কেউ তো গোশত পাঠালো না ! প্রতিবেশীরা আমাদের কথা ভুলে গেলো না তো ? আপনি কি একটু গিয়ে দেখবেন ? কুসুমের বাবাঃ তুমি তো জানো আজ পর্যন্ত কারো কাছে আমি হাত পাতিনি।
আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই কোন না কোন ব্যবস্থা করে দেবেন । দুপুরের পর পীড়াপীড়িতে বের না হয়ে পারলেন না কুসুমের বাবা। প্রথম গেলেন বড় সাহেবের বাড়ীতে । বললেন, বড় সাহেব ! আমি আপনার পড়শী । কিছু গোশত দেবেন ? গোশত চাইতেই বড় সাহেবের চেহারা গোস্বায় লাল হয়ে গেল । তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, কি জানি কোত্থেকে গোশত চাইতে চলে আসে-বলেই ঠাস করে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন ।
অপমানে কুসুমের বাবার চোখে পানি চলে আসলো । ভারি পায়ে চলতে চলতে এবার গেলেন মিঁয়া সাহেবের ঘরের দিকে। দরজায় টুকা দিয়ে বিনীতভাবে কিছু গোশত চাইলেন। মিঁয়া সাহেব গোশতের কথা শুনেই বিরক্তিভরে তাকালেন । পলিথিনে কয়েক টুকরো গোশত দিয়ে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিলেন। যাক, ছোট মেয়েটাকে তো একটা বুঝ দেয়া যাবে, এমনটা ভাবতে ভাবতে কুসুমের বাবা ঘরে ফিরে এলেন। ঘরে ফিরে পলিথিন খুলে দেখলেন শুধু দুটো হাড্ডি আর চর্বি । চুপচাপ রুমে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন। এরই মধ্যে ছোট কুসুম বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, বাবা ! গোশত লাগবে না। আমি গোশত খাবো না। আমার পেট ব্যথা করতেছে। মেয়ের একথা শুনে বাবা আর চাপা কান্না ধরে রাখতে পারলেন না । এমন সময় বাইরে থেকে সবজি বিক্রেতা আকরাম ভাই ডাক দিলো । কুসুমের বাপ ঘরে আছেন ? কুসুমের আব্বু দরজা খুলতেই আকরাম ভাই তিন- চার কেজি গোশতের একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে বলল, গ্রাম থেকে ছোট ভাই নিয়ে এসেছে । এতো গোশত কি একা খাওয়া সম্ভব, বলেন ? এটা আপনারা খাবেন । আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় কুসুমের বাবা ভেঁজা চোখ মুছতে লাগলেন । অন্তর থেকে আকরামের জন্য দোয়া করতে লাগলেন।গোশত রান্না করে সবাই মজা করে খেয়ে উঠতে না উঠতেই প্রচন্ড তুফান শুরু হলো । বিদ্যুৎও চলে গেল । সারাদিন গেল এমনকি দ্বিতীয় দিনও বিদ্যুৎ এলো না। তুফানে ট্রান্সমিটার জ্বলে গিয়েছিলো । কুসুমের বাবা তৃতীয় দিন কুসুমকে নিয়ে হাঁটতে বের হলেন । বাবা-মেয়ে দেখলো, বড় সাহেব ও মিঁয়া সাহেব গোশতে ভরা অনেকগুলো পুঁটলা ডাস্টবিনে ফেলছেন । বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা সব গোশত নষ্ট হয়ে গেছে । ফেলে দেয়া পঁচা গোশতের উপর একদল কুকুরকে হামলে পড়তে দেখে কুসুম বলল, বাবা তারা কি কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য কুরবানী করেছিলেন ? পাশ থেকে মিঁয়া সাহেব ও হাজী সাহেব ছোট মেয়েটির কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললেন। হ্যাঁ, এটিই আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষের বাস্তব চিত্র । আমরা যেন মিঁয়া সাহেব আর বড় সাহেবদের মতো না হই। লাইনে দাঁড় করিয়ে নয় বরং (সম্ভব হলে) অভাবীদের ঘরে ঘরে কুরবানীর গোশত
পোঁছে দেই । আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে উত্তম বিনিময় পাওয়ার আশায় । আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমস্ত নেক আ’মলগুলো কবুল করুন । আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো যেন মাফ করে দেন- আমিন।’

Top