জনপ্রতিনিধি ও সরকারি চাকরিজীবীদের স্থানীয় সেবা নিতে বাধ্য করলে অনেক সমস্যার সমাধান বের হবে – শরীফুল হাসান

Sharif-6-1.jpg

এম এ মান্নান
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি চাকরিজীবীদের স্থানীয় সেবা নিতে বাধ্য করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান বের হবে বলে মনে করেন ডেইলি স্টার, চ্যানেল আই অনলাইন, যুগান্তর ও ডিডাব্লিউ’র ফ্রিল্যান্স কলামিস্ট দৈনিক প্রথম আলোর সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার শরীফুল হাসান। আজ ৫ জুলাই তিনি তার ফেইসবুক আইডিতে এক পোস্টে লিখেন, ‘মন্ত্রী সচিব থেকে শুরু করে সব জনপ্রতিনিধিদের বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারবে না। দেশের বাইরে তাদের কোন বাড়ি এবং সম্পদ থাকবে না। তারা নিজেরা এবং তাদের সন্তানদের দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন। তারা পাবলিক বাসে চড়বেন। তাদের সন্তানেরা পাবলিক স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া তারা সবসময় সরকারি সব সেবা নিতে বাধ্য থাকবেন। এগুলো আমার প্রস্তাব।
রাষ্ট্র এই ছোট্ট নিয়মটা করুক। বিশ্বাস করেন, গোটা বাংলাদেশ বদলে যাবে। ভেবে দেখেন, আপনি জনপ্রতিনিধি, আমলা। আপনি জনপ্রতিনিধি, সচিব। কথায় কথায় আপনারা দেশের মঙ্গলের কথা বলেন মানুষের কথা বলেন অথচ নিজেরা সরকারি হাসপাতালে যান না। পাবলিক বাসে চড়েন না।
বছর পাঁচেক আগে আমি ঢাকার সবগুলো সরকারি প্রাইমারি স্কুলের অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলাম। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তো দূরের কথা সেখানকার দপ্তরীও তার সন্তানকে সরকারি প্রাইমারিতে পড়ান না।
আমি মনে করি এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একটাই উপায়, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি চাকুরিজীবীদের সরকারি সেবা নিতে বাধ্য করা। আমি ভীষনভাবে বিশ্বাস করি জনপ্রতিনিধি ও সচিব আমলারা এক মাস বাসে চড়লে তারাই বাস সেবার মান উন্নয়ন করবেন। একমাস তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানকার সমস্যা বুঝবেন, সমাধানও বের হবে। একইভাবে এই দেশের প্রতিটা সমস্যার সমাধান হবে। আমি মনে করি সরকারি স্কুলের শিক্ষকের ছেলে যদি সেই স্কুলে না পড়ে তাহলে সেখানকার মান কোনদিন ভালো হবে না।
আশা করছি নীতি নির্ধারকরা বুঝবেন। মন্ত্রী এমপি আমলা বা ক্ষমতাশালী যে কারও সন্তানরা যদি বিদেশে থাকে, বিদেশে পড়ে সেখানকার নাগরিকত্ব নেয়, সর্দি কাশি হলেই সেখানে ছুটে যায় তাহলে কোনদিনও দেশের কোন সমস্যার সমাধান তো হবেই না বরং কষ্ট পাবে শুধু সাধারণ মানুষ।’

Top