স্বামী হত্যাকারী বাস চালক ও হেলপারের ফাঁসি চায় ফুলপুরের পারুল

Phulpur-Pic.jpg

এম এ মান্নান :
স্ত্রীর চোখের সামনে তুচ্ছ ঘটনায় নিষ্ঠুরভাবে স্বামী সালাহ উদ্দিনকে হত্যাকারীদের ফাঁসি চায় ময়মনসিংহের ফুলপুরের পারুল আক্তার। পারুল উপজেলার শিলপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের মেয়ে। ঈদের ছুটিতে স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে। ছুটিশেষে রোববার ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার সময় বাস ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে বাসে তার স্বামীকে হেনস্থা ও লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় সালাহ উদ্দিন তার ছোটভাই জামালকে বাঘের বাজারে থাকতে বলে। পরে বাঘের বাজার এলাকায় নামার সময় স্ত্রী ও স্বজনদের সামনে বাস থেকে লাত্থি দিয়ে সালাহ উদ্দিনকে ফেলে দেয় আলম এশিয়া পরিবহণের হেলপার আনোয়ার হোসেন (৩০)। তারপর স্ত্রীকে না নামিয়ে বাসটি দ্রুত ছেড়ে যেতে চাইলে সালাহ উদ্দিন মাটি থেকে উঠে তার ছোট ভাই জামালকে নিয়ে বাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। এ সময় চালক রোকন উদ্দিন তাদের উপর দিয়ে বাস চালিয়ে গেলে ছোটভাই লাফ দিয়ে রক্ষা পেলেও সালাহ উদ্দিন (৪৫) বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সে ঢাকার আলু বাজারের মৃত শাহান উদ্দিনের পুত্র। সে বাঘের বাজার এলাকায় একটি কারখানার গাড়ি চালাতো ও ভাড়া বাসায় থাকতো। তাদের দুজনের ভাড়া ৩০০ টাকার স্থলে আদায় করা হয় ৬০০ টাকা। সে নিজেও একজন চালক হিসেবে ৫০ টাকা কম দিতে চাইলে অশালীন ব্যবহার করা হয় সালাহ উদ্দিনের সাথে। এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। তারপর পুলিশ বাসটিকে আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গিয়েছিল। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধোবাউড়া থেকে চালককে ও শেরপুর থেকে হেলপারকে আটক করেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার স্ত্রী পারুল আক্তার তার বাবার বাড়ি উপজেলার শিলপুর গ্রামে সাংবাদিকদের সাথে এক সাক্ষাতকারে নিষ্ঠুর বাস চালক রোকন উদ্দিন ও হেলপার আনোয়ার হোসেনের ফাঁসি দাবি করেন। চালক রোকন উদ্দিন (৩৫) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার লতিফপুর নোয়াপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে।

Top