ফুলপুরে ১৮ দিনে ৯ অপমৃত্যু

Phulpur-Map.jpg

এম এ মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে গত ১৮ দিনে ৯ জন খুন, হত্যা বা ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুসহ ১ শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অমানবিক ও লোম হর্ষক এসব ঘটনায় এলাকায় এক ধরনের ভীতি বিরাজ করছে।
জানা যায়, প্রবল ঝড় তুফানে উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের মারাদেওড়া গ্রামের আব্দুল হালিম (৬০) গাছচাপায় আগের রাতে নিহত হন। কিন্তু তাকে পরের দিন ২১ মে দুপুরে উদ্ধার করা হয়।
২২ মে উপজেলার সাহাপুর নামক স্থানে অজ্ঞাত এক মাইক্রো বাস ধাক্কা দিলে সড়ক দূর্ঘটনায় আইনল হক (৫০) নামে এক ভ্যান চালক নিহত হন।
৩১ মে দুপুর ২টার দিকে পৌর শহরের সাহেব রোডে মারুফের শিশুকন্যা শিশু উদীয়মান শিল্পী সুকন্যা (১৩) ফাঁসিতে ঝুলে মারা যায়।
ওই একই ৩১ মে রাত না পোহাতেই উপজেলার বাতিকুড়া গ্রামের গৃহবধু খোদেজা (২১)কে মারধর করা হয়। পরে ১ জুন ভোরে স্বামী হাফেজ খলিলুর রহমান ও তার মা আনোয়ারা খাতুন ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খোদেজাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ সময় ঘাতক স্বামী খলিল পলায়ন করে।
এই দিনটি অর্থাৎ ১ জুন শেষ হতে না হতেই রাতে উপজেলার বওলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা মরিয়ম (২১) নিখোঁজ হন। পরে ২ জুন সকালে বাড়ির পিছনে গাছের উঁচু ডালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
অপরদিকে, ২ জুন বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেধাবী ছেলে মোফাখখারুল ইসলাম শিবলু (২৫) ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের চাঁনপুর নামক স্থানে সিএনজি চাপায় মারা যান।
এরপর একদিন পার হতে না হতেই ৪ জুন উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের পারতলা গ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় অর্থাৎ প্রতিপক্ষের ফিশারীর পাড়ে গরু উঠাকে কেন্দ্র করে দিনদুপুরে বেলা সোয়া ১টার দিকে পরিবারের সাথে ঈদ করতে ঢাকা থেকে আসা রড কোম্পানীর শ্রমিক শফিকুল ইসলাম (৪০) নামে একজনকে খুন করা হয়।
৭ জুন রাতে পৌরসভার বেপারীপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের ছেলে কাজল (২৩) নিখোঁজ হয়। পরে ৮ জুন দুপুরে খরিয়া নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন এই খরিয়া নদী থেকেই উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের নিজ আশাবট গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কাইল্যা (৬০) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মেহেদী হাসান জানান, ৭ জুন শুক্রবার সকালে একটি অপহৃত শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। একের পর এক অমানবিক ও লোম হর্ষক এসব ঘটনায় এলাকায় এক ধরনের ভীতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসি মনে করেন, এসব ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দিলে এগুলো কমে আসবে এবং সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে।

Top