ফুলপুরে শুরু হচ্ছে কংশ নদী খনন : ঘটবে উন্নয়ন বিপ্লব

Phulpur-Pic-Dredger.jpg

এম এ মান্নান :
১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ বিআইডাব্লিউটিএ নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর অঞ্চলে ১৫৫ কিলোমিটার নদী খননের কাজ হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ফুলপুরে শুরু হচ্ছে কংশ নদী খনন। নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে বারহাট্টা, পূর্বধলা, ময়মনসিংহের ফুলপুর ও শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলায় ভোগাই ও কংশ নদী খনন করা হবে। বসুন্ধরা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, সোনালি ড্রেজার লিমিটেড, বিডিএল-এসআরডিসি, এসএস রহমান-মাতৃবাংলা ও নবারুণ ট্রেডার্স এই ৫টি কোম্পানীকে নদী খননের কাজ দেওয়া হয়েছে। এই নৌপথটিতে প্রস্থে ৮০ থেকে ১০০ ফুট এবং গভীরতায় ৮ ফুট খনন করা হবে। খনন কাজ চলতি ২০১৯ সনের মে মাসে শুরু হয়েছে। চলবে ২০২১ সনের জুন পর্যন্ত। অভ্যন্তরীণ নৌপথে ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রথম পর্যায় ২৪টি নৌপথ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই খনন কাজ হচ্ছে। শুকনো মৌসূমে ৮ ফুট গভীরতা রাখা এই প্রকল্পের লক্ষ্য। বিআইডাব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর মাহবুব- উল- ইসলাম বলেন, প্রকল্পের আওতায় ২৪টি নৌরুটের মধ্যে ৭টি রুটের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১৭টি রুটের ড্রেজিং চলমান রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পগুলোর ৬১.৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৭০ কিলোমিটার নৌপথের নাব্য ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফুলপুর ও হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া কংশ নদী খনন কাজ কখন শুরু হবে জানতে চাইলে বিআইডাব্লিউটিএ’র প্রজেক্ট ডিরেক্টর সাইদুর রহমান জানান, কাজ আরো আগেই শুরু হয়ে গেছে। তবে ফুলপুরের অংশটুকুতে কংশ নদী খননের কাজ এ সপ্তাহেই শুরু হবে। এর পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে সরচাপুর ঘাটে ড্রেজার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ২৩ মে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলার জারিয়া এবং দূর্গাপুরের ঝাঞ্জাইলে বৃহস্পতিবার কংশ নদী খনন কাজ উদ্বোধন করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খনন কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে। এতদাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং কৃষি কাজে ও মৎস্যচাষে হবে ব্যাপক উন্নতি। নাব্য সংকটের কারণে ধীরে ধীরে ঐতিহ্যবাহী নৌপথগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। নৌপথের নাব্য ফিরিয়ে এনে দেশের আবহমান ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারসহ সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

Top