ফুলপুরে হেল্ডস’র পর এবার অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়ালো গ্রামাউস

M-A-Khaleq.jpg

এম এ মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে অসহায় কৃষকদের পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার কাজে সহযোগিতা করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হেল্ডস’র পর এবার কৃষকের পাশে দাঁড়ালো গ্রামীণ মানবিক উন্নয়ন সংস্থা (গ্রামাউস)। বুধবার সকালে উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের বিধবা শাহিদা খাতুনের ৪৫ শতাংশ ও চাঁনপুর গ্রামের অপর আরেক বিধবা সাহিদা খাতুনের ৩০ শতাংশ জমির ধান কেটে দিতে জেলা পরিষদ সদস্য ও গ্রামাউসের সিইও আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে ২৯ জন ও হেল্ডস’র ২০ জন সদস্য মাঠে নামেন। এ সময় জেলা পরিষদ সদস্য ও গ্রামাউসের সিইও আব্দুল খালেকসহ হেল্ডস নেতা তাসফিক হক নাফিও, আতিকুর রহমান ও আব্দুল্লাহ আল সায়েম লিঠুসহ অনেকেই ধান কাটার কাজে অংশ নেন। আশপাশের লোকেরা তখন ক্ষেতের আলে ভীড় জমান। বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে এক উৎসবমুখর পরিবেশে স্বেচ্ছায় ধানকাটা কর্মসূচী পালিত হয়।
জানা যায়, একই সাথে সারা দেশে ধান পেকে যাওয়ায় কাজের লোকের সংকট দেখা দেয়। তাছাড়া বিগত কয়েক বছরে গ্রামের বহু সংখ্যক গরিব নারী পুরুষ বিদেশ গমন, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর বন্দরে গার্মেন্টস ও বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরীর কাজে চলে যাওয়ায় ও সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে সচ্ছল জীবনে ফিরে যাওয়ায় গ্রাম পর্যায়ে চরমভাবে কাজের লোকের সংকট দেখা দিয়েছে।
আর এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের বর্তমান শ্রমিকরা তাদের মাহিনা দুই থেকে তিন গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে গরিব, অসহায় ও মধ্যবিত্ত কৃষকরা বিপাকে পড়েন। ক্ষেতে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে অথচ কাজের লোকের অভাবে বা বেশি মাহিনা চাওয়ায় ধান ঘরে তুলতে না পারায় কৃষকরা হতাশা অনুভব করছেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হেল্ডস’র কিছু তরুণ তরুণী তাদের সাহায্যের হাত বাড়ান। সোমবার উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের ঘোমগাঁও গ্রামের ক্যানসার আক্রান্ত আবু বকরের ৮০ শতাংশ বোরো জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেন। এর মাধ্যমে তারা স্বেচ্ছায় ধানকাটা কাজের উদ্বোধন করেন। এ সংবাদ বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার যুব সমাজসহ অনুপ্রাণিত হন ফুলপুরের আরেক নামকরা ও ঐতিহ্যবাহী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রামাউস। তারা গরিব ও অসহায় বর্গা চাষিদের তালিকা তৈরি করেন এবং শ্রমিক সংকট মূহুর্তে এভাবেই অসহায় কৃষকদের সাহায্যে সহযোগিতা করে যাবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গ্রামাউসের সিইও আব্দুল খালেক বলেন, আল্লাহ রহমত করলে আগামী কাল বাতিকুড়ার একজনের, শুক্রবারে কাইচাপুর এবং শনিবারে পাতিলগাও অসহায় কৃষকের ধান কেটে দেয়া হবে। সুশীল সমাজের সদস্যরা বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রত্যেকের ছেলে মেয়েদেরকেই এভাবে যে কোন সংকট কাটিয়ে উঠার মত যোগ্যতা সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। তা নাহলে মানুষ যেভাবে গরিব থেকে ধনী হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে সর্বক্ষেত্রেই কাজের লোকের সংকট আরো প্রকট হতে পারে।

Top