ফুলপুরে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে ওসি বদরুলের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে

3425.jpg

এম এ মান্নান:
ময়মনসিংহের ফুলপুরে আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে ওসি মুহাম্মদ বদরুল আলম খানের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মদ, জুয়া, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহ উল্লেখযোগ্য হারে নিরসন হচ্ছে এমনকি এগুলো ফুলপুর থেকে অনেকটা বিদায় নিয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। এসব কাজে সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ চৌকস এ অফিসার এর আগের থানায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের আইজির নিকট থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন। এ থানায় যোগদান করে বেশ কিছু স্মরণীয় কাজ তিনি করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো, দেশ স্বাধীনের পর তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ফুলপুরের ৪ যুদ্ধাপরাধীকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যূনালে প্রেরণ করা। এরফলে প্রকম্পন সৃষ্টি হয়েছে যুদ্ধাপরাধ ও জঙ্গি শিবিরে। দু:সাহসী ও বিচক্ষণ এই ওসি অপরাধ অঙ্গণে আতঙ্ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করার পাশাপাশি অতি কাছের পুলিশ অফিসারেও পরিণত হয়েছেন সমাজের নীরিহ ও শান্তিপ্রিয় মানুষদের। তিনি তার উর্ধ্বতন অফিসারদের একান্ত ভক্ত ও অনুগত। যে কোন কাজে ও অপারেশনে বের হলে তাদের অনুমতি নিয়ে বের হন। বসদের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা আসলে তা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে ওঠেন এই পুলিশ অফিসার। অনুগত, দক্ষ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও কাজে তৎপরতা গুণসহ নানা গুণের কারণে এসপি শাহ আবিদ হোসেন তাকে সমীহ করে থাকেন। তার নেতৃত্বে শত শত মাদকসেবী, দেশীয় ও ভারত থেকে আমদানী করা বিদেশী মদের ব্যবসায়ী, জুয়াড়ী, পলাতক আসামী ও ওয়ারেন্টভুক্ত বহু আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি মুহাম্মদ বদরুল আলম খান বলেন, এগুলো আমার রুটিন কাজ। একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে এসব কাজ করা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তার যোগদানের পূর্বে ফুলপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুন, হত্যা, ছিনতাই, রাহাজানি ও চুরি-ডাকাতিসহ মাদক, জুয়া, বাল্য বিবাহ ইত্যাদি নানা অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছিল। তিনি যোগদান করে উর্ধ্বতন বসদের পরামর্শে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে একের পর এক সাঁড়াশী অভিযান চালিয়ে এসব কঠোর হস্তে দমন ও নিয়ন্ত্রণ করেন। এখন খুন-খারাপি ও মাদকের মত জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কথা আর তেমন শোনা যায় না। দেখা যায় না পত্রিকার পাতায়ও। বরং শোনা যায়, থানায় কুরআন তিলাওয়াতের আয়োজন হচ্ছে; হামদ, না’ত, ক্বেরাত, উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতার জন্য স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি মাদরাসার ছাত্রদেরও আহ্বান করা হচ্ছে। যে কারণে ওসির প্রশংসা এখন সাধারণের মুখ ছাড়িয়ে অসাধারণদেরও মুখে মুখে। একজন অফিসার ইন-চার্জ হিসেবে বাক-পটুতা, শিক্ষা-দীক্ষা, উন্নত ভাষা জ্ঞান, উপস্থাপনা ও স্টাফ পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও বিভিন্ন কাজকর্মে পারদর্শিতাসহ যেসব গুণ থাকা দরকার এর সবগুলোই ওসি মুহাম্মদ বদরুল আলম খানের মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় সুধীমহল। এলাকাবাসি তার কাছ থেকে ফুলপুরকে অপরাধমুক্ত থানা হিসেবে ঘোষণা শুনতে চান। এ ব্যাপারে ওসি মুহাম্মদ বদরুল আলম খান সংশিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Top