গৌরব দীপ্ত পিতার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কিছু কথা

Emdadul-Islam.jpg

শিবলী নোমান
আব্বার সাথে কাটানো প্রতিটি মূহুর্ত ছিল শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার। ছাত্রজীবনে তিনি আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাস করার পর উচ্চতর ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণের জন্য বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামী বিদ্যাপীঠ হাটহাজারী মাদরাসায় গমন করেন।
হাটহাজারী মাদরাসায় অধ্যয়নকালীন সময়ে তাঁর জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মার্জিত, পরিচ্ছন্ন, সদালাপী, নিরহংকার, বেশভূষার আস্ফালনহীন আত্মপ্রচার বিমুখ একজন উন্নত চরিত্রের মানুষ ছিলেন।
ঘরে কিংবা বাইরে তিনি তন্ময় হয়ে থাকতেন যিকিরের সাধনায়।তিনি অপ্রয়োজনীয় কোন কথা বলতেন না।অনর্থক কোন কাজে সময় ব্যয় করতেন না।
তার প্রতিটি প্রহর ছিল তাওয়াক্কুল ও ইখলাসের বেষ্টনীতে আবদ্ধ।কোন চাকচিক্য কিংবা পার্থিব স্বার্থ তাকে একচুল পরিমাণও সরাতে পারেনি তার লালিত আদর্শ থেকে।
সত্য ও ন্যায়ের ব্যাপারে তিনি ছিলেন অবিচল ও আপোষহীন। প্রতিটি কাজে তিনি সুন্নতে নববীর অনুসরণের ব্যাপারে ছিলেন মূর্ত প্রতীক।
অবারিত সুযোগ হাতছানি দেওয়া সত্ত্বেও পার্থিব লোভ-লালসা,ভোগবিলাসিতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।
তিনি কোন একদিন কথাপ্রসঙ্গে বললেন,আমি অবৈধ পথে টাকা উপার্জন করবো,তোরা ভোগ বিলাসিতায় মত্ত থাকবি,আর আমি কবরে আল্লাহর শাস্তি ভোগ করবো তা কখনো হতে পারেনা।আমি পার্থিব সুখ সম্ভোগের জন্য জান্নাতের অনন্তকালের ভোগ বিলাসিতাকে বিসর্জন দিতে পারব না।
আমার কওমি মাদরাসা,আলিয়া মাদরাসা এবং ভার্সিটিতে অধ্যয়ন করার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু তাঁর মতো এমন বিরল, ক্ষণজন্মা পরহেজগার, খোদাভীরু,ধর্মানুরাগী ব্যক্তি খুব কমই দেখার সৌভাগ্য হয়েছে ।
আমি তাঁকে এমনই দেখেছি অনেকগুলো বছর,অসংখ্য প্রহর, তিনি আমার মাথার মুকুট, আমার অভিভাবক,আমার শ্রদ্ধেয় পিতা মরহুম মাওঃ এমদাদুল ইসলাম (রহঃ)। তিনি চারবছর আগে ০৬/০৩/১৫ রোজ শুক্রবার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
আল্লাহ তা’য়ালা আব্বাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন করুন। রব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানী সগীরা।

Top