ফেইসবুকে পোস্ট পেয়ে জমিসহ ঘরের ব্যবস্থা করলেন ফুলপুর ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী

Amina-Houseless.jpg

এম এ মান্নান
‘একটি সরকারী ঘর চায় অসহায় আমেনা খাতুন’ ফেইসবুকে এমন পোস্ট পেয়ে আমেনা খাতুন (৫০) ‘র জন্য জমিসহ ঘরের ব্যবস্থা করে দিলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জেবুন নাহার শাম্মী। এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ফুলপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আমিন লেখেন, আমেনা খাতুন অসহায় দুস্থ সহায় সম্বলহীন এক হতভাগা মহিলার নাম। দিনমুজুর পিতা মোছলেম উদ্দিন তাকে বিয়ে দিয়েছিল আরেক দিনমুজুর আলী হোসেনের কাছে। নানা অত্যাচার সহ্য করে সংসার করলেও এক পর্যায়ে স্মামী দ্বিতীয় বিয়ে করার প্রতিবাদ করায় প্রায় ৩০ বছর আগে বিধবা হন তিনি। সেই থেকে অসহায় জীবন শুরু হয় আমেনার। আজ এ বাড়ী, কাল ওবাড়ী কাজ করে মানুষের কাছে চেয়েদেয়ে জীবন চলে তার। এক পর্যায়ে ঠিকানা হয় ফুলপুর ইউনিয়নের কাজিয়াকান্দা পাইকপড়া গ্রামের আব্দুল আজিতের বাড়ীতে। বর্তমানে সে ওই বাড়িতে থেকেই অন্যের বাড়িতে কাজ কাম করে কোনরকমে জীবন কাটছে তার।নানা রোগে আক্রান্ত স্বামী নাই, সন্তান নাই, অসহায় এ মহিলাটি সরকারী ঘরের জন্য অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি ঘর পায়নি। ফুলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ তার অসহায়ত্ব দেখে একটি বিধবা কার্ড করে দিয়েছিল। সেখান থেকে মাসে ৪০০ টাকা পায়। বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কাছে গিয়ে একটি ঘরের দাবী করলে তিনি ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরীর সাথে দেখা করতে বলেন। আমেনা আমার বাসাসহ আরেক বাসায় কাজ করে রাতে কাজিয়াকান্দা আশ্রিতবাড়ীতে গিয়ে রাত কাটায়।
বিষয়টি আমার সাথে আলাপ করলে আমি বলি চেয়ারম্যন ঠিক কথাই বলেছেন, আপনি দেখা করেন গিয়ে, উনি ভাল লোক। সে একাই ইউএনও’র সাথে দেখা করে তার অসহায়ত্বের কথা জানায়।সেখানে আমার নামও বলে। ইউএনও অতিদরিদ্র এ মহিলার দুঃখের কথা শুনে বলেন, আপনার জমি নাই তাই আপাতত: ঘর দেয়া যাবে না। আপাতত: একটি সেলাই মেশিন আপনাকে দিব। পরে আমার সহযোগিতায় ইউএনও’র দেয়া সেলাই মেশিন পায় বৃদ্ধ আমেনা খাতুন।সরকারী সাহায্য হিসাবে একটি কার্ড ও ইউএনও’র দেয়া সেলাই মেশিন ছাড়া বর্তমানে তার কোন সম্বল নেই। সরকারি খাস জমি বরাদ্দ করে একটি সরকারী ঘর দেয়া হলে অসহায় মহিলা আমেনা নিজের ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেত। — এ পোস্ট পড়ে ডায়নামিক ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী আমেনাকে তার অফিসে দেখা করতে বলেন। পরে আমেনা তার অফিসে গেলে ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী তাকে ২ শতাংশ জমিসহ একটি ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

Top