ফুলপুরে ওয়াজাহাতি জোড় অনুষ্ঠিত

Phulpur-Pic.jpg

এম এ মান্নান :
‘হেদায়াত আল্লাহর হাতে নয়। তাহলে যুগে যুগে নবী-রাসূল আসতো না। কুরআন শরীফ না বুঝে পড়লে কবিরাহ গুনাহ।’ বিশ্ব তাবলীগের আমীর মাওলানা সা’দের এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে পরিহার করার জন্য ফতোয়া দিয়েছেন, ঢাকার মুফতী আব্দুল মালেক, ময়মনসিংহের মুফতী ফজলুল হকসহ শীর্ষ উলামায়ে কেরাম। গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতীব আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, সা’দ সাহেবের তাযকীয়ায়ে নাফসের প্রয়োজন। তাওবা করে তাকে আত্মাশুদ্ধি করতে হবে। ময়মনসিংহের ফুলপুর মার্কাজ মসজিদে রবিবার বিকাল ৩টায় ওয়াজাহাতি জোড়ে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম এসব কথা জানান। তারা আরো জানান, মাওলানা সা’দ নিজেকে আমীর দাবি করে বলেন, তোমরা কি জানো? তাবলীগ আমার পিছে চলে। এসব বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাইন উদ্দিন বলেন, আমরা কোন ব্যক্তির তাবলীগ করি না। আমরা আল্লাহর দীনের তাবলীগ করি। আমরা আগে যেভাবে করতাম উলামায়ে কেরামের পরামর্শ অনুযায়ী সেভাবেই তাবলীগ করে যাব। জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়ার শায়খুল হাদীস আল্লামা এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জোড়ে আরো বক্তব্য রাখেন, ইত্তেফাকুল উলামা ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মুফতী মুহিব্বুল্লাহ, বালিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আইন উদ্দিন, গোদারিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেক, ময়মনসিংহ টিচার ট্রেনিং কলেজ মসজিদের ইমাম মুফতী গোলাম মাওলা ভুঁইয়া, মাওলানা শরীফ, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুফতী আব্দুল ওয়াদূদ, আল হুমাইরা মহিলা মাদরাসার সাবেক মুহতামিম মাওলানা শাহ জামালী, ছনকান্দা মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন, হাফেজ শাহ জাহান সিরাজী প্রমুখ। গোদারিয়া মাদরাসার মুহতামিম শাইখুল হাদীস আল্লামা আব্দুল খালেক বলেন, দীনের ধারক বাহক হলেন উলামায়ে কেরাম। তাদের বাদ দিয়ে তাবলীগ হয় না। তিনি বলেন, বাল্লিগু আন্নি ওয়া লাও আয়াহ। এ কথা কাকে বলা হয়েছে। মূর্খদের বলা হয়েছে? না, বরং আলেমদের বলা হয়েছে। তাহলে আলেম ছাড়া তাবলীগ চলে কি করে? যুগে যুগে আলেমরাই তাবলীগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, আল্লামা সা’দ ধোঁকায় রয়েছেন। আল্লাহ পাক তাকে হেদায়াত দান করুন। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশ্ববরেণ্য অলী আব্দুল্লাহ উন্দুলুসীর পথভ্রষ্টতা ও পরবর্তীতে হেদায়াতের পথে ফিরে আসার কিসসা বয়ান করেন। মাওলানা মুহিউদ্দিন বলেন, এ যমানার উলামায়ে কেরাম বনী ইসরাঈলের নবীদের মত। উলামায়ে কেরাম উম্মতের জন্য মা-বাবাস্বরূপ। সাধারণদেরকে তাদের মেনে চলতে হবে।
মুফতী গোলাম মাওলা ভুঁইয়া বলেন, ইমাম সাহেব ভুল করলে লুকমা দিলে লুকমা গ্রহণ না করলে তার পিছনে নামাজ হয় না। এমনিভাবে মাওলানা সা’দ সাহেবকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লুকমা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তিনি কারো লুকমা গ্রহণ করছেন না। এরপরও কি তাকে মেনে চলতে হবে? সা’দ ভক্ত সাধারণ তাবলীগীদের উদ্দেশ্যে মাওলানা শাহ জামালী বলেন, এদেশের উলামায়ে কেরামের সাথে থাকুন। উলামায়ে কেরামকে তুচ্ছজ্ঞান করে, অন্য দেশকে বা অন্য দেশের আলেমকে বেশি মূল্যায়ণ করা, এটাও এক ধরনের দেশের প্রতি অসম্মান ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার সমান। মাওলানা শরীফ বলেন, আল্লামা সা’দ ভুল পথে আছেন। বুকে গুলি করলেও এ সত্য উলামায়ে কেরাম বলেই যাবেন। উলামায়ে কেরামের পথে আসুন। এর কোন বিকল্প নেই।

Top