ফুলপুরে তাবলীগের ওয়াজাহাতি সভা অনুষ্ঠিত

Phulpur-Pic-Markaz.jpg

এম এ মান্নান
ময়মনসিংহের ফুলপুরে ছনকান্দা বাজার জামে মসজিদে ২৭ আগস্ট সোমবার বাদ মাগরিব এক ওয়াজাহতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বয়ান করেন, জামিয়াতুল হুমাইরা (রা.) লিল বানাত, ফুলপুর এর সদরুল মুহতামিম আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুজিবুর রহমান, ফুলপুর ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সাত্তার (অব.), বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মাইন উদ্দিন, ফুলপুর মার্কাজ মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আব্দুল ক্বাইয়্যূম, রূপসী মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুজিবুর রহমান, পয়ারী আলিম মাদরাসার সিনিয়র উস্তাদ মাওলানা আব্দুর রহমান, ফুলপুর আদর্শ মাদরাসার উস্তাদ মাওলানা নজরুল ইসলাম, ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ এরশাদুল্লাহ, তাবলীগের আমির আব্দুর রউফ প্রমুখ। উপস্থাপনায় ছিলেন, ফুলপুর আদর্শ মাদরাসার উস্তাদ মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। সবশেষে মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন, ছনকান্দা বাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন। বয়ানে ওই মসজিদে আসা একজন চিল্লার সাথী বলেন, মুনাফিক ছাড়া আলেমদেরকে অন্য কেহ হেয়প্রতিপন্ন করে কথা বলে না। তিনি আরো বলেন, একমাত্র আলেমরাই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তাবলীগের বিপদ চলতেছে। এ অবস্থায় আমাদের বেশি বেশি নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে। নবীর ওয়ারিশদের শত্রু হলো ইয়াহুদ-নাসারারা। ওই শত্রুরা তাবলীগের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। নসীহতের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি দ্বারা যেমন মুর্দা জমিন জীবিত হয়, তেমনি উলামায়ে কেরামের নসীহতের দ্বারা মানুষের মুর্দা দিলগুলো জিন্দা হয়। মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাবলীগ একটা বাগানস্বরূপ। এর শিকড় হলো, উলামায়ে কেরাম। মাওলানা সা’দের এক উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সা’দ সাহেবের কথা হলো, বে-আমল আলেমের আগে বেশ্যা জান্নাতে চলে যাবে। এমনকি যারা মাদরাসা মসজিদে পড়িয়ে বেতন নিবে বেশ্যারা তাদেরও আগে জান্নাতে চলে যাবে। মাওলানা আব্দুল ক্বাইয়্যূম বলেন, কিতাব ও রিজালের সমন্বয়ে আল্লাহ তা’য়ালা দীন বানাইছেন। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, আমার উম্মত গোমরাহীর উপর একত্রিত হবে না। তিনি আরো বলেন, মাশাওয়ারাহ’র মাধ্যমে আমাদের কাজ করতে হবে। মাশাওয়ারার মধ্যে ইয়াছত সর্দারী ও সিয়াসত হুকুমত এগুলো থাকবে না। সা’দ অনুসারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মহব্বতের কারণে যদি কেহ দীন ছেড়ে যায়, তবে সেটাকে তো মহব্বত বলে না। এ সময় মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান পুনরায় বলেন, মাওলানা ইলিয়াস (রহ) ১৫ বছর, ইউসুফ (রহ) ২১ বছর আর এনামুল হাসান (রহ) ৩০ বছর তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর ছিলেন। তারা কখনো নিজেকে আমীর দাবী করেননি। মাওলানা সা’দের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজেকে আমীর দাবী করেন এবং বলেন, তোমরা কি জানো? তাবলীগ আমার সাথে চলে। হাফেজ মাওলানা মাইন উদ্দিন বলেন, সাহাবীদের সাথে পরামর্শ না করলেও হুজুর (সা.)’র কথা তারা মানতে বাধ্য ছিল। তবু তিনি তাদের সাথে পরামর্শ করতেন। আলেমদের সম্বন্ধে কটুক্তির প্রতিবাদে কেউ কেউ বলেন, ‘আলেমরা এইডা নিয়া এত মাথা ঘামায় কেয়া? আমরার হুজুরের কথায় আলেমরার মধ্যে খুঁচা লাগছে।’ এসব কথার কারণে সকল উলামায়ে কেরামের নজর এখন এদিকে পড়ছে। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর দীনের তাবলীগ করি, কোন ব্যক্তির নয়। আল্লামা সা’দের জন্য আফসোস করে বাসস্ট্যান্ডের ইমাম বলেন, হুজুরের কেন যে এ ভাব হল? আল্লাহ পাক তাকে সহীহ বুঝ দান করুন। সবশেষে তিনি বলেন, যুগে যুগে তাবলীগের যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা সবাই আলেম ছিলেন। কাজেই আলেমদের থেকে কেউ দূরে সরে যাব না। আমরা দীনের কাজ আগে যেভাবে করতাম এখনও সেভাবে করে যাব।

Top