ফুলপুরে জলাতঙ্ক নির্মূল কার্যক্রমের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত

Dog1.jpg

এম এ মান্নান
২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের ল্ক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের ফুলপুরে ৫দিনের কর্মসূচী হাতে নিয়ে ব্যাপকহারে কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম ১৭ মে শুরু করে ২১ মে সোমবার প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত করে।
সিরাজগঞ্জের সিরাজুল, আনোয়ার, জহির ও জামালসহ একটি টীম ফুলপুর পৌরসভায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়। এদের মধ্যে জামালের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি কুকুরকে ভ্যাকসিন দিতে গেলে বাকিরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এর ফলে কুকুরের বেশ একটা অংশ ভ্যাকসিনের বাইরে রয়ে গেছে। পরবর্তীতে আবার সুযোগ হলে তারা ওই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবেন বলে তিনি জানান। ফুলপুরের ১০ ইউনিয়নেই এভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। প্রোগ্রাম সফল হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. পরিমল কুমার পাল প্রোগ্রাম সফল হয়েছে দাবি করে বলেন, ৭০% কুকুরকে ভ্যাকসিন দিলেই প্রোগ্রাম সফল হয়। এর মধ্যে ফুলপুর পৌরসভা ও ১০ ইউনিয়নে মোট ৩৮৬৩ কুকুরের মধ্যে ২৯৯৭টি কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৭৮% কুকুর ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে। তিনি বলেন, ৭০% কুকুরকে ভ্যাকসিন দিলেই যেখানে প্রোগ্রাম সফল হয়, এর মধ্যে আমরা ৭৮% কুকরকে ভ্যাকসিন দিয়েছি। অতএব আমরা সফল। কিন্তু মেয়র আমিনুল হক বলেন, যে উদ্যোগটা নেওয়া হয়েছে নি:সন্দেহে তা মহৎ। কিন্তু এক্সপার্ট লোক না থাকায় ফুলপুরে প্রোগ্রামটি সফল হয়নি। অদক্ষ লোক দিয়ে কাজ করানোতে দেখা গেছে একটি কুকুর ধরতে গিয়ে আরও দশটি কুকুর পালিয়ে গেছে। ফলে কর্মসূচী সফল হয়নি। তিনি বলেন, কুকুরের উপদ্রবে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল কলেজে যেতে পারে না। আরো এক্সপার্ট লোক দিয়ে কাজটা করালে এলাকাবাসি উপকৃত হবে।
এর আগে এ বিষয়ে ১৪ মে ফুলপুর হাসপাতালে ব্যাপকভাবে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পরিমল কুমার পাল সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য দেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল বাসার আকন্দ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী, পৌর মেয়র মো. আমিনুল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা খাতুন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কায়সার জামিল, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রাণেশ চন্দ্র পন্ডিত, সিংহেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ আব্দুল মোতালেব, ভাইটকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার এমডিভি সুপারভাইজার এইচএসএম তারিফ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, কুকুরের কামড়ে ফুলপুর উপজেলার সখল্যা গ্রামের শিশু তামিম (৭)কে প্রাণ দেয়াসহ মফস্বলের বিভিন্নজনকে ভ্যাকসিন অভাবে দিতে হয়েছে অনেক মাসূল। তবু কুকুর নিধনের অনুমতি মিলেনি। কারণ, কুকুরও মলমূত্র খেয়ে ও নানাভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহযোগিতা করে। অবশেষে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার ঘোষণায় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসলেও প্রোগ্রামটি পুরোপুরি সফল বিষয়ে প্রশ্ন থাকায় এলাকাবাসি শীঘ্রই দ্বিতীয় রাউন্ডে কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি জানান।

Top